সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা:
প্রেক্ষাপট: সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শেষ বছর ২০১৫ সাল। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনারও সমাপ্তি বছর ২০১৫। জাতীয় প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বা¯তবায়নের ঘাটতি পূরণ করতেই শুরু হচ্ছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। এ পরিকল্পনাটি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার একটি ধারাবাহিক দলিল।
সময়সীমা: ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাস (জুলাই ২০১৫) থেকে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু।
প্রতিপাদ্য: প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতারণ প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়ন।
ব্যয়: প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রধান লক্ষ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ। তিনটি ধাপে এ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরুর প্রথম ধাপ জুলাই-২০১৫ শেষ পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত এবং শেষ বা চূড়ান্ত ধাপ ২০১৮-২০২১ সাল পর্যন্ত।
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিপূরক বিষয়: সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া পরিপূরক বিষয় বা দিকগুলো হচ্ছে কারিগরি ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রুপান্তরের কৌশল নির্ধারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ, আইসিটি খাতের ব্যাপক প্রয়োগ-প্রসার, ব্যাপক কর্মসংস্থান, শিশু ও মাতৃ উন্নয়ন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে গতিশীলতা আনয়ন ইত্যাদি।
সহায়ক দিক-নির্দেশনা: সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় লক্ষ্য-অর্জনে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, সরকারি আয়-ব্যয়, ঘাটতি, অর্থায়ন, বৈদেশিক সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি খাতের ভূমিকা, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও সংস্কারের ধরন প্রভৃতি বিষয়ে দিক-নির্দেশনা রয়েছে।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়:
জাতীয় উন্নয়নকে সামনে রেখে দেশে এ যাবৎ বাস্তবায়িত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসমূহের প্রতিটিতেই ছিল নানা রকমের বাস্তবায়ন ঘাটতি। এরই মধ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বাস্তবায়ন ঘাটতি পূরণে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার। আগের পরিকল্পনার পিছিয়ে থাকা ক্ষেত্রগুলোর উত্তোরণের লক্ষ্যে ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নেও রয়েছে নানামুখী সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ।
প্রথমত, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন: সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গৃহিত ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অজনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কেননা জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একই সূত্রে গাঁথা।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন : সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে এ দিকটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা তারও আগে উৎপাদনশীলতায় গতি আনতে এ দুই কাঠামোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তৃতীয়ত, নগরায়ন ও শিল্পায়নের বিকেন্দ্রীকরণ: এ দুয়ের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের ব্যাপকতা পৌঁছাতে পাওে দেশের সর্বত্র। উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বিপুল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের কল্যাণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে
অগ্রণী ভূমিকা রাখা এ বিষয়টিকে তাই ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে দিতে হবে।
চতুর্থত, দারিদ্র ও আয় বৈষম্য হ্রাস: সপ্তম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ এটি। যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ প্রায় প্রতিটি নীতি ও পরিকল্পনাতে বিশেষত দারিদ্র্য হ্রাস বা দূরীকরণের লক্ষ্যে অনিবার্য দিক হিসেবে পরিলক্ষিত হয়। তথাপি দারিদ্র্য নিরসনে আশানুরুপ গতি পায়নি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য নিরসন ও আয়-বৈষম্য দূরীকরণকে সার্বিক গুরুত্ব দিতে হবে।
পঞ্চমত, মূলধনের স¦ল্পতা: পূর্বের যে কোনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার চাইতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীর বাস্তবায়ন ব্যয় অনেক বেশি। তাই পর্যাপ্ত মূলধন যোগানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ট্যাক্স বা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে ।
ষষ্ঠত, বিনিয়োগ আকর্ষণ: পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় গৃহিত সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ও এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক সমূহের যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, শিল্পায়ন প্রভৃতির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অপরিহার্য।
সপ্তমত, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার গৃহীত লক্ষ্য- উদ্দেশ্য অর্জনে আরও যে সব চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে সেগুলো হলো- ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট বা জনসংখ্যার বোনাস সুবিধা কাজে লাগানো, পরিবেশ বাঁচিয়ে শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ভিত্তিক প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সুস্পষ্টকরণ, সম্পদেও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণসহ স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি।